তাঁর শিল্পীজীবনের অন্যতম প্রধান অধ্যায় তবলা সাধনা। জয়পুরহাটে অবস্থানকালে গুরুজী চঞ্চল মণ্ডলের কাছে তবলায় তাঁর হাতেখড়ি হয়। পরবর্তীতে গুরুজী গোবিন্দ কর্মকারের স্নেহ, নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে জয়পুরহাট জেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকে তবলায় চার বছরের ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেন। শিল্পের প্রতি গভীর নিষ্ঠা ও সাধনার ধারাবাহিকতায় ঢাকায় আসার পর প্রখ্যাত তবলা গুরুজী মৃত্যুঞ্জয় মজুমদারের সান্নিধ্যে দীর্ঘদিন তবলা চর্চা করেন। পরবর্তীতে ভারতীয় দূতাবাসের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে প্রখ্যাত তবলা গুরু পণ্ডিত গোপাল মিশ্রের সান্নিধ্যে দুই বছরেরও অধিক সময় তালিম গ্রহণ করেন এবং আজও তাঁর নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে তবলা সাধনা অব্যাহত রেখেছেন।
শিল্পের
প্রতি তাঁর ভালোবাসা কেবল ব্যক্তিগত সাধনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা বিস্তৃত হয়েছে পরিবেশনা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও সাংস্কৃতিক
আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি দীর্ঘদিন তবলা
বাদক হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশগ্রহণ
ও পরিবেশনা করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত
থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অবদান
রেখেছেন।
বর্তমানে
তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। পেশাগত জীবনের
ব্যস্ততার পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতাকে আরও সুসংগঠিত ও
প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রত্যয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান “নন্দশিল্প একাডেমি”। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তাঁর দক্ষ
নেতৃত্ব, নিষ্ঠা,
সততা, সৃজনশীলতা ও দূরদর্শী চিন্তার মাধ্যমে
তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে একটি প্রাণবন্ত ও মানসম্মত সাংস্কৃতিক শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে
গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নতুন প্রজন্মকে সংগীত, নৃত্য, তবলা, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক চর্চার
সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তাদের সৃজনশীল ও মানবিক বিকাশে ভূমিকা রাখাই তাঁর অন্যতম
প্রধান প্রত্যয়।
শিল্পচর্চার
পাশাপাশি সাহিত্যও তাঁর সৃজনশীল সত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। “অব্যক্ত অভিব্যক্তি” শিরোনামে তাঁর একমাত্র কাব্যগ্রন্থ অমর
একুশে বইমেলা ২০২৪-এ প্রকাশিত হয়। তাঁর কবিতায় ব্যক্তিগত অনুভূতি, জীবনবোধ, আবেগ ও সমাজ-বাস্তবতার নানা অনুষঙ্গ
প্রতিফলিত হয়েছে। উদীয়মান গীতিকবি হিসেবেও তিনি ইতোমধ্যে শ্রোতামহলে পরিচিতি ও
গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।
তবলা
শিল্পী হিসেবে নিজের শিল্পসত্তার প্রকাশ এবং সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে
তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসব ও আয়োজনে অংশগ্রহণ করেছেন। শিল্প ও
সংস্কৃতির বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ভারত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ
ভ্রমণ করেছেন। এসব আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক পরিসরের অভিজ্ঞতা তাঁর শিল্পভাবনা ও
সাংগঠনিক দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
পেশাগত পরিচয়ের বাইরে
অমিত সরকার একজন শিল্পী, কবি
ও সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে এগিয়ে চলেছেন। তাঁর কাছে
শিল্প কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; শিল্প
মানুষের মনন, মূল্যবোধ
ও মানবিক চেতনাকে বিকশিত করার এক শক্তিশালী মাধ্যম। সেই বিশ্বাস থেকেই শিল্প,
সাহিত্য ও সংস্কৃতির
চর্চাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে
একটি সৃজনশীল, রুচিশীল
ও মানবিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখার প্রত্যয়ে তাঁর নিরন্তর পথচলা।











